বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় আদালতে বসিয়ে রেখে কষ্ট দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির পর ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে, চিকিৎসকরা বলবেন তিনি ফিট কিনা। কিন্তু সেটা তারা বলেননি। তারা বলেছেন, তিনি এখনো চিকিৎসাধীন আছেন এবং এখনি তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা সঠিক নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাকে দেখেছি, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। হুইল চেয়ারেও তিনি ঠিকমতো বসতে পারছেন না। তাকে হুইল চেয়ারে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তার মধ্যেও তাকে জোর করে আদালতে বসিয়ে রেখে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। এটা অমানবিক। আমরা এর নিন্দা করছি এবং অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করছি।’
এরআগে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী বুধবার (১৪ নভেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি করেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি হওয়ার পর বিচারক এ আদেশ দেন। শুনানি শেষে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়েছে।
এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে স্থাপিত আদালতে তোলা হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিএনপি প্রধানকে বিএসএমএমইউ থেকে বের করে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে কারাগারে ঢোকে খালেদাকে বহনকারী গাড়িটি। বুধবার(৭ নভেম্বর) নাজিমুদ্দিন রোডের পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা এই সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। গেজেটে বলা হয় নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালীন এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের কক্ষটিকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অসচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে বেগম জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলা করে দুদক।
from CNN Bangladesh https://ift.tt/2SVnMOw
No comments:
Post a Comment